Monday, October 3, 2022

Gupi Bagha and Satyajit Roy

 " গুপী গায়েন বাঘা বায়েন ( 1969)", "হীরক রাজার দেশে (1980)" এবং "গুপী বাঘা ফিরে এলো (1992)"-----এমন কোনো বাঙালি আছেন, যিনি "গুপী বাঘা" এর এই Trilogy দেখেন নি!! বা দেখলে ভালো লাগে নি!!! বোধ হয় না। "সত্যজিৎ রায়" এর একটা creative dedication হলো এই Trilogy, যাকে masterpiece বলা যায় অনায়াসে। প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর লেখা রূপকথা অবলম্বনে এই সিরিজটি নির্মিত হয়েছে। বিজয়া রায়ের স্মৃতিচারণা ‘আমাদের কথা’ থেকে জানা যায়, পুত্র সন্দীপ রায়ের অনুরোধে তিনি এই ছবির সিরিজ তৈরি করেন। অন্যান্য ছবির মতো এখানেও Screen play ও Music Direction তাঁরই। প্রথম দুটি মুভিরও পরিচালক তিনি নিজে এবং শেষেরটির পরিচালক ওনার পুত্র সন্দীপ রায়। বাংলা ছবিতে Sequel তৈরি বোধ হয় ওনার হাত ধরেই।

ছোটদের জন্য এই ছবিগুলো তৈরি হলেও, এই ছবি সব বয়সের দর্শকদের প্রিয়। "না-পাওয়া থেকে শুরু করে (ভূতের বরে) সব-পাওয়া এবং নিজের সব চাহিদা মিটলেও, অন্যের দুঃখ দূর করে তাদের আনন্দ দেবার সুখটাই যে আসল জীবন"----এই messege ই এই ছবিগুলোর প্রাণ। পর্দায় রূপকথার presentation অনেকবার দেখেছি, কিন্তু এরকম presentation প্রতিবার আমাদের শৈশবকে ফিরিয়ে দিয়েছে, আর এই magic কিন্তু অন্য কোথাও পাই নি। ছবির গল্প, পরিবেশ, সজ্জা, আবহ, অভিনয়, dialogues, সঙ্গীত সব কিছুই আমাদের বাস্তব যুক্তিগ্রাহ্য মনকে যেন hyptonised করে রাখে। আর এই ভালোলাগা চিরন্তন।

কিন্তু এই ছবিগুলোর নির্মাণ কাজ সহজ ছিল না, সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল financial arrangements .প্রথম ছবিটির জন্য প্রযোজক ( অসীম দত্ত ও নেপাল দত্ত) পেলেও, বাকি দুটি ছবির জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাহায্য নিতে হয়েছিল। এ ধরণের প্রতিকূলতাকে challange হিসেবে নিয়ে সত্যজিৎ রায় কাজে নামেন। ছবিগুলোতে ব্যবহৃত Set, design, costumes, paintings, সব production team এর নিজের হাতে বানানো। কাগজ, রাংতা, ফুলদানি, লোহার তার, কাপড়, রং ইত্যাদি দিয়ে সবার শিল্পীমনের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠেছিল। Wall Painting ও না কি ছিল সত্যজিৎ রায়ের নিজের আঁকা। এমনকি, গুপী বাঘার " যা ইচ্ছে খাইতে পারি" এর খাবার ও ছিল সাধারণ arrangement এর অসাধারণ পরিবর্তন, যেমন : মিষ্টি ছিল আসলে আলু সিদ্ধ, মাছ-মাংসের ঝোল ছিল আসলে সাধারণ তরকারি ইত্যাদি।
সত্যজিৎ রায়ের গলায় ভূতের রাজার "গুপী বাঘা তোরা খুব ভালো ছেলে..... কাছে আয় কাছে আয়"-- কার না মনে আছে। শুধু কি তাই! সম্মিলিত ভূতের নৃত্য পরিবেশনার scene তো দেশে বিদেশে " A technical tribute" বলে প্রশংসিত হয়েছে। ভূতের বর, খাওয়া-পরা-ভ্রমণের অবাধ স্বাধীনতা, সম্মোহন, মগজ ধোলাই এর মত আরো অবাক করা factors এই ছবিগুলোর চৌম্বক আকর্ষণ, যা আজও একই আছে।

এই ফিল্ম সিরিজের প্রত্যেকটিতে মুখ্য ভূমিকায় তপেন চ্যাটার্জী ও রবি ঘোষের মতো দুর্দান্ত অভিনেতাদের পেয়েছি। সঙ্গে সৌমিত্র চ্যাটার্জী, উৎপল দত্ত, সন্তোষ দত্ত, হারিন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, জহর রায়, হারাধন বন্দোপাধ্যায়, অজিত বন্দোপাধ্যায়, সুনীল সরকার, ননী গাঙ্গুলী, অজয় ব্যানার্জির মতো বহু অভিনেতাদের পেয়েছি । এক ইন্টারভিউ যে সত্যজিৎ রায়, রবি ঘোষ সম্পর্কে বলেন, "রবিকে দিয়ে অভিনয় করাতে গিয়ে আমি নিজেই হেসে ফেলি। ক্যামেরা অন হলে ও এমনভাবে চরিত্রের সঙ্গে মিশে মুখভঙ্গি করে, ক্যামেরা এর পিছনে আমি কিছুতেই হাসি চাপতে পারি না"। একেই বলে dedication. ফলস্বরূপ আমরা পেয়েছি কালজয়ী 3 টে ছবি, যা আমাদের চুম্বকের মতো আটকে রাখে । প্রথম ও দ্বিতীয় ছবিদুটির মতো তৃতীয় ছবি ( গুপী বাঘা ফিরে এলো) অতটা জানাসমাদর না পেলেও, সিরিজের ছবি হিসেবে নিজের একটা জায়গা করে নিয়েছে।

National Award এর সঙ্গে সঙ্গে বহু Internatinal Award এ সম্মানিত হন সত্যজিৎ রায় এবং এই ছবিগুলি এবং তাঁর production team.
এই ছবিগুলো থেকে Inspired হয়ে, 2013-14 সালে Indian Animated Film Director শিল্পা রানাডে একটি হিন্দী Animated film তৈরি করেন -"গুপী গাওইয়া বাঘা বাজাইয়া" এবং এটিও দেশে বিদেশে বহু পুরস্কার অর্জন করে। এমনই এই রূপকথার যাদু। আজও এই সিনেমা বাংলা তথা Indian cinema তে একটা Milestone হয়ে আছে।

সন্দীপ রায় এই সিরিজের 4র্থ ছবি তৈরির ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু তপেন চ্যাটার্জী ও রবি ঘোষ ছাড়া " গুপী বাঘা" আর কাউকে ভাবাই যায় না।

No comments:

Post a Comment

Gupi Bagha and Satyajit Roy

 " গুপী গায়েন বাঘা বায়েন ( 1969)", "হীরক রাজার দেশে (1980)" এবং "গুপী বাঘা ফিরে এলো (1992)"-----এমন কোনো বাঙাল...